
নিজস্ব প্রতিনিধি : মেজর পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সোনাগাজীর বিভিন্ন গরীব কৃষকের জায়গাজমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৎস্য অধিদপ্তর, বেড়ীবাঁধ সহ সরকারী জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্ট সংলগ্ন সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সের মালিক মেজর সোলায়মানের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধান করে জানা যায়, মেজর পরিচয়ধারী এই সোলেমান সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালীর সাহাব উদ্দিন (হোমিও ডাক্তার, তাকিয়া রোড়, সোনাগাজী) তার ৬০ ডিসিম জমি জবরদখল করেছে। নবাব মিয়া সোনাপুর হাইস্কুলের উত্তরের বাড়ী তার ৭০ ডিসিম জমি দখল করেছে। ভৈরব চৌধুরীর নাড়ারগো গিয়াস উদ্দিনের ভাই খোকা মিয়ার ৫৪ ডিসিম জমি দখল করে দীঘি করেছে। সুলাখালীর আরও ৩ জন মালিকের ২ একর জমি দখল করেছে। ওমর গাজী চৌধুরী ভুলুমিয়াদের বাড়ীর মুহু মিয়ার ছেলে ইটালি প্রবাসীর (খাটি কাগজপত্রের জায়গা) ৫৬ ডিসিম দখল করেছে। সোনাপুর হাইস্কুল সংলগ্ন বাড়ীর (সোনাগাজী ছাবের পাইলটের শিক্ষক) মৌলভী আমিনুল হক এর কিছু জায়গা দখল করেছে বলে জানা গেছে। আরুমিয়া চেয়ারম্যান বাড়ীর রফিক মাস্টারের ১২০ ডিসিম জমির মধ্যে ৭২ ডিসিম জমি দখল করেছে সোলেমান। তার ভাই মাওঃ লোকমানের বাড়ীর জায়গা কৌশলে নিজের নামে কাগজপত্র করে নিয়েছে। তার ছোট ভাই সাহাব উদ্দিনের মোট ২ একর জায়গা জবরদখল করেছে বলে সাহাব উদ্দিনের ছেলে সুমনের অভিযোগ। তার প্রকল্পে চরডুব্বার আরও দুজন মালিকের জমি আছে বলে জানা গেছে। হাজী জাফর আলী মসজিদের ১ একর জায়গা আত্মসাৎ করেছে সোলেমান। তার ভাতিজা নুরনবীর কিছু জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছে খোদ সোলেমানের নাতি নাহিন। সরকারি মৎস্য খামারের প্রায় ১ একর জায়গা দখল করেছে সোলেমান। সোনাপুর বাজারের বাবুল টেইলার এর ৭ ডিসিম জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দখল করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ সহ অসংখ্য মানুষের জায়গাজমি ও ডাক্তার বাড়ী রোড় (ওয়াটার বোর্ডের এপ্রোচ রোড়) দখল করে আছে এই ভূমিদস্যু সোলেমান।
তার ঘনিষ্ঠ একজনের কাছ থেকে মোবাইলে কল রেকর্ড সূত্রে জানা যায়- নদীর কাব থেকে ছমদ আলীদের তালগাছ পর্যন্ত প্রায় ১২ একর জমি তার দখলে তারমধ্যে মাত্র ৫ একর বৈধ লিজ নেওয়া, বাকী ৭ একর সরকারী খাস জায়গা দখল করে আছে মেজর সোলেমান।
মেজর সোলেমানের স্কাভেটর ড্রাইভার জানায় রাতের অন্ধকারে মেজর তাকে নির্দেশ দেয় মানুষের এই জমি কেটে পুকুর করে তার প্রকল্পের এরিয়ায় ডুকিয়ে ফেলতে।
সাধারণ মানুষ তার জায়গা দখলের প্রতিবাদ করতে মেজর সোলেমানের এরিয়ায় প্রবেশ করলে সে লুটপাট ও চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেয় তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে আসেনা।
এবার ভুমি মালিকগণ পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে সংঘবদ্ধ হচ্ছে, তারা মেজর পরিচয়ে জমি দখল ও নানান অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান সহ নানান কর্মসূচি হাতে নিবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (খামার ব্যবস্থাপক) মোস্তফা জামান জানান- মৎস্য প্রকল্পের তারকাটার বাইরে এই রোড়টা পানি উন্নয়ন বোর্ডের, এটা কারো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়, এই রোড়ে ১৯৮৭ থেকে এটা এপ্রোচ রোড় হিসেবে ছিলো, স্থানীয় কৃষকেরা চলাচল করতো। মেজর সোলেমান রাস্তার একমাথা বন্ধ করে রেখেছে আবার অপর অংশ দখল করতে চাইছে এটা উচিৎ নয়।