শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিকের পর এবার কুমিল্লা ও উত্তরায় ৬ সাংবাদিকের ওপর হামলা – বিএমএসএফের প্রতিবাদ ভ্যানচালক রাজুর উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান নতুন তথ্য মন্ত্রীকে বিএমএসএফের শুভেচ্ছা হরিপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন, সফল মৎস্যচাষীদের বিশেষ সম্মাননা সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেফতার; মুক্তির দাবি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম ফুলপুরে অসহায় শাবানার পাশে বিএমএসএফের সদস্যরা সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করুন হরিপুরে সাপের কামড়ে ঘুমন্ত নারীর মৃত্যু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুমিল্লায় সাংবাদিক ইউনিয়নের মানববন্ধন

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করতো ওরা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৪৩ Time View

মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ শিক্ষকতা পেশার আড়ালে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেল করতো ওরা । অভিনব কায়দায় হাতিয়ে নিতো লক্ষ-লক্ষ টাকা । এমন কাণ্ডে যুক্ত দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা নারীরা হলেন, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার পার কালিকাপুর গ্রামের অার্মির সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার অাজহারুল ইসলামের মেয়ে এবং
বালিচ গ্রামের মাহবুবুর রহমানের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী আইরিন ইয়াসমিন লিজা (৩৪) ও ঢাকার সাভার থানার ডেন্ডাবর নতুনপাড়া পলাশবাড়ী গ্রামের ফিরোজের মেয়ে শামীমা আক্তার (২৪)। দুজনেই সাভারের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন বলে জানা গেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ।

মজিবুর রহমান নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাবাহিনীর সার্জেন্টকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য,গত ৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর উপশহরের দুই নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মজিবুর রহমান নগরীতে প্লট কেনাবেচা এবং রেন্ট-এ-কার ব্যবসা করতেন।

নগর পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন তার বাসায় স্ত্রী-সন্তান কেউই ছিলেন না। সেদিন বাসা থেকে নগদ ৪ লাখ টাকাসহ ওই সেনা সদস্যের মোবাইল ফোন খোয়া যায়। এ নিয়ে মৃতের ছেলে বোয়ালিয়া মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দুই শিক্ষিকার সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।

২৭ সেপ্টেম্বর,সোমবার দুপুরে নিজ দফতরে অভিযানের পুরো ঘটনা জানান নগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, শিক্ষকতা পেশার আড়ালে এই দুই নারী বিভিন্ন মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আইরিন জানিয়েছেন, মজিবুর রহমানের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারা দুজন স্বেচ্ছায় মজিবুরের বাড়ি এসেছিলেন। রাতে তারা মজিবুরের পাশের ঘরে শুয়েছিলেন।

তখন মজিবুর রহমান ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে আইরিনকে তার রুমে ডাকেন।ওই সময় আইরিন তার রুমে না যাওয়ার কারণে ম্যাসেঞ্জারেই তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর মজিবুর জানান, রাত তিনটার মধ্যে আইরিন না গেলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। তখন আইরিন ম্যাসেঞ্জার এবং এসএমএসের মাধ্যমে মজিবুর রহমানকে মরতেই বলেন।

পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গ্রেফতারকৃতরা মজিবুর রহমানকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে দেখেন। এসময় তারা মোবাইল ফোন, বাড়ির চাবি এবং নগদ চার লাখ টাকা ও কিছু কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরদিন সকালে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মজিবুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা তদন্তে নেমে ওই দুই নারীর সম্পৃকতা পায় পুলিশ। এরপর একে একে তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় মজিবুর রহমানের খোয়া যাওয়া ফোন। পরে তাদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান আরএমপি কমিশনার।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বালিচ গ্রামের মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি কসব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত অাছেন। এর পাশাপাশি মান্দার দেলুয়াবাড়ি বাজারে তার একটি চেম্বার রয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগী দেখে থাকেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজে অাটককৃত লিজাকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। যা সঠিক নয়। মূল বিষয়টি যে, গত ২০০৭ ইং সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি তাকে বিয়ে করার পর তার সাথে বনিবনা না হওয়ার কারণে ২০১৮ ইং সালের ২৩ শে মে তাকে তিনি ডিভোর্স দেন। এরপর থেকে তিনি অার কখনোই তার সাথে যোগাযোগ করতেন না বলে জানিয়েছেন। ওই পক্ষের অাবরার বিন মাহবুব ঐক্য নামের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বর্তমানে সে তার মায়ের সাথেই থাকে। অার তিনি তার একই গ্রামে স্থানীয় এক মেয়েকে বিয়ে করে গত কয়েকবছর যাবৎ সুখের সংসার করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে এমন সংবাদে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান। তার দাবি যে, লিজা এবং লিজার বাবা মা এবং তার ছোট বোনের চরিত্র ভালো না হওয়ার কারণে তার এসব নোংরামি করে থাকেন। তাদের দ্বারা এসব সব সম্ভব। তাদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। পাপ তো বাপকেও ছাড়ে না। সুতরাং ওরা পাপ করছে, অার সে কারণে ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। অাগামীতে যেনো ওরা অার কারো কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Darpan 24
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin