
স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনমতের একাংশ অভিযোগ তুলেছে—কুমিল্লা-০৪ (দেবিদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রাজি মোহাম্মদ ফখরুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৪নং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঃ ওহাব সহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ক্ষমতা পরিবর্তনের পরও তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকেই প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় আওয়ামীলীগ-সমর্থিত হিসেবে পরিচিত আবু কাউছার সরকার (এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত), আবু তাহের সরকার (৪নং সুবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান), আব্দুল ওহাব (৪নং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি), খোরশেদ আলম ডিলার (আওয়ামী যুবলীগ নেতা)সহ আরও কয়েকজন বর্তমানে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও তাদের কর্মকাণ্ডের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনও তারা ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত ১৫ বছর আওয়ামীলীগ সরকারের সমর্থক থাকার সুযোগে তারা সরকারি তহবিল আত্মসাৎ ও প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম করেছেন। এমনকি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এক সভায় আব্দুল ওহাব প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন—“শেখ হাসিনার বিরোধিতা করলে কেউ রেহাই পাবে না।” তার সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দেবিদ্বারে ছাত্রজনতার ওপর হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়। আঃ ওহাব ৪ আগস্ট দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকায় ৪নং সুবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার ও দেবিদ্বার উপজেলা পৌর মেয়র মেয়র মোঃ সাইফুল ইসলাম শামিম এর নেতৃত্বে ছাত্র জনতার উপর হামলা চালিয়ে সাব্বির হত্যায় জড়িত আছে বলে জানিয়েছেন সুবিল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেলে অভিযুক্তদের কয়েকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত আব্দুল ওহাব বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে ঢাকার শান্তিনগর এলাকার একটি খানকাহ শরিফে আত্মগোপন করে আছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য—“রাজনৈতিক পরিচয় বদল করলেই কিংবা নতুন দলের পতাকা ধরলেই অপরাধী নির্দোষ হয়ে যাবে না। আমরা নিরাপত্তা চাই।” এদিকে অভিযুক্তদের কারও পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।