
জাহিদ হাসান,বিশেষ প্রতিনিধি;”আলীকদম উপজেলা তৈন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ঝুকিমুক্ত মাতৃত্বের নিশ্চয়তা পেতে চলে আসুন যে কোন প্রয়োজনে”এই স্লোগানে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা দানে সফলতার পথ বেয়ে এগিয়ে চলা এক স্বাস্থ্য সেবিকার গল্প নিয়ে কিছু কথা। বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার তৈন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্র। সাপ্তাহের প্রতিদিনই গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ ডেলিভারী হয় এই কেন্দ্রে।মায়েরা গর্ভবতী হবার পর থেকে শুরু করে গর্ভকালীন সময়ে সব ধরনের সেবা, পরামর্শ ও ঔষধ পেয়ে থাকেন তৈন পরিবার কল্যান স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে। প্রতিদিন কেন্দ্রের বাহিরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদেরকে বুঝানো হচ্ছে, প্রসবকালীন বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয়, এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েও।নব দম্পতিদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে ধকরণা দেয়া হচ্ছে সন্তান ধারনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি সমুহ সম্পর্কে।”কম বয়সে বিয়ে নয় ও কুড়ির আগে সন্তান নয়”, যৌন সংক্রমন রোধে করনীয় ইত্যাদি বিষয়ে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোরীদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রদান করা হচ্ছে কিশোরীদের একান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী। জীবন ঘনিষ্ট নানান বিষয়ে দলবদ্ধভাবে জ্ঞান দেয়া হচ্ছে।
দম্পতিদের মাঝে বিতরনকৃত আকর্ষণীয় উপহার বক্সে রয়েছে সতচেতনতামূলত বুকলেটসহ নানান আইটেম।তৈন পরিবার কল্যান কেন্দ্রের সেবিকা মমতাজ বেগমের এই নিরলস কর্ম তৎপরতার সুবাতাশ বইছে আলীকদমে।একদা স্থানীয়রা নিরাপদ মাতৃত্ব- ডেলিভারী নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় থাকতেন। সেটা নরমাল বা সিজার হোকনা কেন।এক্ষেত্রে ব্যায় বহুলতো বটে, দূরে কাছাকাছি কোন শহরের ক্লিনিকে করা হতো ডেলিভারী। দরিদ্র সমাজে এমনটা ছিল মহা বিপদ।প্রত্যান্ত পাহাড়ী পল্লীগুলোতে শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণে প্রতি বছর ঘরে ঘরে অপরিণত, অনভিজ্ঞ, অজ্ঞ দায়ী দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হতো অনেক মায়েরা। অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ, প্রসব পরবর্তী প্লাসেন্টা সঠিকভাবে বের না করা, রক্তক্ষরণ রোধে সঠিকভাবে সেলাই না দেয়াসহ আরো নানা কারণে, মাতৃ মৃত্যু যেমন ছিল, নবজাতকের জন্যও ছিল জীবন ঝুঁকি।হাল সময়ে আলীকদম উপজেলা তৈন পরিবার কল্যান কেন্দ্রে বিনামূল্যে, কোন ধরনের খরচ ছাড়াই নরমাল ডেলিভারি করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞ গাইনি-স্বাস্থ্য কর্মিদ্বারা তৈন কেন্দ্রের ডাক্তার বেলাল উদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার দিদারুল আলমের নির্দেশনায় সমন্বিত টিমের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারি হয়।এর ফলে স্থানীয়রা এখন যেকোন প্রয়োজনে অন্য কোথাও না গিয়ে তৈন কেন্দ্রে চলে আসে।নরমাল ডেলিভারিতে মায়েদের উৎসাহিত করতে গণপ্রপজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে নগদ টাকাসহ উপহার সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে।তৈন কেন্দ্রের সিনিয়র সেবিকা মমতাজ বেগম জানান, “এভাবেই সফলতার গল্পের জন্ম দিতে আমরা আলীকদম উপজেলা তৈন পরিবার কল্যান কেন্দ্র বদ্ধ পরিকর”।