
সোনাগাজী প্রতিনিধি : ফেনীর সোনাগাজী উপজেলাধীন আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহম্মদপুরে এক মসজিদের ইমামের স্ত্রীকে হাত-পা বেধে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বোরকা পরা সন্ত্রাসীরা। এছাড়া মসজিদের ইমামতি ছেড়ে তাকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ারও হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
এ ঘটনার জন্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম মাসুদ ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দায়ী করলেন ক্ষতিগ্রস্ত ইমাম।
দুই দফায় হুমকির ঘটনা ঘটলেও গত ১৪ আগস্ট দুপুরে আহম্মদপুর গ্রামের ব্যাপারী কোনা এলাকায় ইমামের ভাড়া বাসায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ইমাম হাতেম আলী বাদী হয়ে আহম্মদপুর গ্রামের জয়নাল চেয়ারম্যান বাড়ির মৃত আবদুল শুক্কুরের ছেলে এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম মাসুদ এবং ওই গ্রামের আইয়ূব মিয়ার ছেলে যুবলীগ কর্মী সালাহ উদ্দিনকে আসামী করে সোনাগাজী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জয়নাল চেয়ারম্যান বাড়ির আবদুল শুক্কুরের বর্তমানে পাঁচ কন্যা ও এক ছেলে রেজাউল করিম মাসুদ জীবিত রয়েছেন। বোনদের সহযোগিতায় মাসুদ পিতার বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর নবনির্মিত ঘর থেকে বোনদের বের করে দিয়ে মাসুদ ওই ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এতে বোনদের সাথে মাসুদের পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। মাসুদের সব বোন একত্রিত হয়ে পিতার বাড়িতে থাকার জন্য বোন খুকিকে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মাসুদের বোনের মালিকীয় ঘরে ভাড়া থাকেন পূর্ব আহম্মদপুর কাজীর তালুক নূরে জামে মনজিদের ইমাম হাতেম আলী। তিনি দীর্ঘ চার বছর যাবৎ ওই মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাসুদের বোনের অনুরোধে স্থানীয় একজন রাজমিস্ত্রির মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে দেন ইমাম। এতে করেই মাসুদের চক্ষুশূলে পরিণত হন ওই ইমাম। গত প্রায় দুই মাস পূর্বে নিজের ব্যবহৃত মুঠো ফোন থেকে মাসুদ ইমামের মুঠো ফোনে ফোন করে গালমন্দ করে মসজিদের ইমামতি ছেড়ে সপরিবারে এলাকা ত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে হুমকি দেন। এতে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন ইমাম ও তার স্ত্রী।
গত ১২ই আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইমাম মসজিদে নামাজরত অবস্থায় থাকাকালীণ অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ভাড়া বাসার টিনের বেড়া ছিদ্র করে উঁকি দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে এলাকা ত্যাগের হুমকি দিয়ে আসে। বিষয়টি স্থানীয়দের অবগত করলে সন্ত্রাসীরা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠে। গত ১৪ই আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বোরকা পরে দুই সন্ত্রাসী ঘরে ঢুকে ইমামের স্ত্রীকে একা পেয়ে হাত-পা ও মুখ বেধে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এসময় তার বাসার সব মালামাল ভাঙচুর করে তছনছ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় সালাহ উদ্দিন নামে এক সন্ত্রাসীকে চিনতে পেরেছেন ইমামের স্ত্রী। তাঁরা এ ঘটনার জন্য মাসুদকে দায়ী করেন। মাসুদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে ভাই-বোনদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের নিরীহ ইমাম ও তাঁর স্ত্রীর কাঁধে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছেন মাসুদ। এমনটাই দাবী এলাকাবাসীর। মাসুদ তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করতে হীন কৌশলে ইমামকে চাকরিচ্যুত করার আল্টিমেটামও দিয়েছেন। তিনি মসজিদে কমিটিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইমামকে চাকরিচ্যুত করা ছাড়া মসজিদের মাসিক চাঁদা তিনি দিবেননা। গত কয়েক মাস ধরে তিনি মসজিদের চাঁদাও দিচ্ছেননা। এর আগে তিনি প্রতিমাসে মসজিদের জন্য এক হাজার টাকা করে চাঁদা দিতেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এবং এলাকায় চরম উত্তেজনার ও সৃষ্টি হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার এসআই নুরুল করিম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে রেজাউল করিম মাসুদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গ্রুপ আমার পারিবারিক বিরোধকে কাজে লাগিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছে।