শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিকের পর এবার কুমিল্লা ও উত্তরায় ৬ সাংবাদিকের ওপর হামলা – বিএমএসএফের প্রতিবাদ ভ্যানচালক রাজুর উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান নতুন তথ্য মন্ত্রীকে বিএমএসএফের শুভেচ্ছা হরিপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন, সফল মৎস্যচাষীদের বিশেষ সম্মাননা সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেফতার; মুক্তির দাবি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম ফুলপুরে অসহায় শাবানার পাশে বিএমএসএফের সদস্যরা সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করুন হরিপুরে সাপের কামড়ে ঘুমন্ত নারীর মৃত্যু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুমিল্লায় সাংবাদিক ইউনিয়নের মানববন্ধন

বেনাপোল চেকপোস্টে কাস্টমস এর গাফিলতির কারনে ট্রাভেল ট্যাক্স জালিয়াতি চক্র সক্রিয়, সরকার পাচ্ছে না বিপুল অর্থ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫
  • ১৬০ Time View

মোঃ খসরুনোমান সংগ্রাম, বেনাপোল প্রতিনিধি : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর।এই বন্দর দিয়ে আমদানি- রপ্তানি সহ দেশের বেশিভাগ পাসপোর্ট যাত্রী বিভিন্ন কারনে ভারতে যাতায়াত করে থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ার কারনে।ভারতে যাওয়ার সময় ট্রাভেল ট্যাক্স (ভ্রমন কর) দিতে হয় পাসপোর্ট যাত্রীদের।শুধুমাত্র ক্যান্সারের রোগী ও ৫(পাঁচ) বছরের নিচের বাচ্চাদের ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হয় না। দেশের বিভিন্ন ব্যাংকসহ বেনাপোল চেকপোস্টে অবস্থিত আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সোনালী ব্যাংকে ট্রাভেল ট্যাক্স ও পোর্ট ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।এছাড়াও অনলাইনে ট্রাভেল ট্যাক্স ও পোর্ট ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে জালিয়াতি চক্র।জালিয়াতি চক্র আগে অনলাইন থেকে কাটা কোনও যাত্রীর ট্রাভেল ট্যাক্সের কপি সংগ্রহ করে তার উপর নাম ও পাসপোর্ট নাম্বারটি কম্পিউটারে ইডিট করে যাত্রীদের দিচ্ছে।

পাসপোর্ট ধারীদের পোর্ট ট্যাক্স সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য পোর্টের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট একটা ডেক্স ও স্ক্যানার মেশিন রয়েছে। কিন্তু কাস্টমসে ল্যাগেজ স্ক্যানার থাকলেও ট্রাভেল ট্যাক্স (ভ্রমন কর) রশিদ সঠিক কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এনবিআর থেকে বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমসে নিদিষ্ট কোনও ডেক্স ও স্ক্যানার মেশিন নেই, এমনকি কারোর তদারকিও নেই।শুধুমাত্র এক থেকে দুইজন কাস্টমস সিপাই টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে আছে ট্রাভেল ট্যাক্স (ভ্রমন কর) এর কপি সংগ্রহ করা ও কপি ছিড়ে দেওয়ার জন্য আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে জালিয়াতি চক্র।যেহেতু কপি স্ক্যানার নেই তাই তদারকী ও তেমন নেই। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রায়ই ট্রাভেল ট্যাক্স জালিয়াতি ধরা পড়ে বেনাপোল চেকপোস্টে কিন্তু সব প্রসাশন (বিজিবি, পুলিশ, কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা,এন এস আই, ডি জি এফ আই,আর্মস পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ) থাকা সত্ত্বেও জাল ট্যাক্স দেওয়া যাত্রী বা কারা জাল ট্যাক্স করে দিলো তাদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না ।

যেমন ০৬/০৩/২০২৫ ইং বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল চেকপোস্টে ভ্রমণ কর জালিয়াতির ঘটনায় ৬ ভারতীয় পাসপোর্টধারীকে আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করে। তবে পরবর্তীতে এধরনের অপরাধ করবেনা মুসলিকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার( ০৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে অভিযুক্তদের সোনালী ব্যাংক থেকে শাস্তি মুলক ট্রাভেল ট্যাক্স (ভ্রমন কর) কেটে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরাধী ৬ ভারতীয়ের মধ্যে চার জন নারী ও দুই পুরুষ পাসপোর্টধারী রয়েছে।নাম – জিনুত খাতুন(২৪),রেশমা খাতুন(৪৫),নুডরাট আরা(৩৮),শাহিন পারভিন(৩১), আহম্মদ হোসেন (২৮),সগির হোসেন (২৯)।
ইতিপূর্বেও একাধিকবার ভ্রমনকর ফাঁকির অভিযোগ অনেক পাসপোর্ট যাত্রীদের আটক করা হয়েছে ,কিছুদিন পুর্বে ভারতীয় কয়েকজন পাসপোর্টধারীকে আটক করা হয়েছিল। তবে নানান অযুহাতে শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে কাস্টমস নামমাত্র দায়িত্বের কারনে প্রায়ই ঘটছে ভ্রমন কর জালিয়াতির ঘটনা। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক আইনী ব্যবস্থা না থাকায় সরকার ভ্রমন ক্ষাতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

অপরদিকে ভারত থেকে আগত পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছে খাদ্যদ্রব্য, কসমেটিক্স,শাড়ী,থ্রী-পিছ,কম্বলসহ বিভিন্ন পন্য তিন(৩) কেজির বেশি থাকলে কাস্টমস এর কিছু কর্মকর্তা ডি,এম (সাময়িক জব্দ) করে দিচ্ছে।যেটা আইন বহির্ভুত কাজ বলে জানান ভুক্তভোগি ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীরা।

বেনাপোল চেকপোস্টের কাস্টমস সুপার মোঃ আবদুল গণি সাহেবকে ৬ (ছয়) জনের ট্রাভেল ট্যাক্স জালিয়াতির বিষয়ে শাস্তিমুলক কি ব্যবস্থা নিলেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান এন বি আর থেকে কোনও নির্দেশনা না থাকায় তারা কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছেন না ।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি রাসেল মিয়া জানান, সন্দেহভাজন ছয় পাসপোর্টধারীদের ট্রাভেল ট্যাক্সের রসিদগুলো জাল বলে নিশ্চিত করা হয়। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নতুন করে কর কেটে ভারতে পাঠায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইমতিয়াজ মোঃ আহসানুল কাদের ভূঁইয়া বলেন,ট্রাভেল ট্যাক্স জালিয়াতি চক্র ধরা পড়লেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না। 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Darpan 24
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin