শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিকের পর এবার কুমিল্লা ও উত্তরায় ৬ সাংবাদিকের ওপর হামলা – বিএমএসএফের প্রতিবাদ ভ্যানচালক রাজুর উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান নতুন তথ্য মন্ত্রীকে বিএমএসএফের শুভেচ্ছা হরিপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন, সফল মৎস্যচাষীদের বিশেষ সম্মাননা সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেফতার; মুক্তির দাবি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম ফুলপুরে অসহায় শাবানার পাশে বিএমএসএফের সদস্যরা সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করুন হরিপুরে সাপের কামড়ে ঘুমন্ত নারীর মৃত্যু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুমিল্লায় সাংবাদিক ইউনিয়নের মানববন্ধন

জিন্নাত আলী কুতু্বী ও মুক্তারাম ত্রিপুরার নেতৃত্বে লামায় শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় একটি চক্র

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫০৫ Time View

জাহিদ হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি; বান্দরবান লামা উপজেলা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম গিরি সংকুলান গ্রাম গয়ালমারা। পাহাড়ী-বাঙ্গালি প্রায় শ্ খানেক পরিবারের বসবাস সেখানে। একদা দেশি-বিদেশী চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের নিরাপদ অভয়ারণ্য ছিল গ্রামটি। দুর্বল সড়ক যোগাযোগের কারনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যাতায়ত ছিল সীমিত।বিগত ৮/৯ বছর আগে অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্বে পাহাড়ী সন্ত্রাসী প্রধান ক্যাহ্লাথোয়াই খুন হওয়ার পর আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ঘটে গ্রামটিতে। একই সময় যোগাযোগ ব্যাবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে নতুন রুপে আবির্ভাব ঘটে আরেকটি সন্ত্রাসী চক্রের।অনুসন্ধানে জানাযায়, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের সাথে যুক্ত হয় সমতলের কিছু সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষকসহ বাগান উদ্যাক্তারা জানান, এসবের মূল হোতা মুক্তারাম ত্রিপুরা কারবারী। তার সাথে যুক্ত হয় কক্সবাজার জেলা কুতুবদিয়ার বাসিন্দা জিন্নাত আলী কুতুবী প্রকাশ আলুগোলা নামের একজন। জানাযায়, কুতুবদিয়ার বাসিন্দা জিন্নাত আলী বিগত ৭/৮ বছর আগে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর বাজারে পল্লী সিকিৎসক হিসেবে ২য় স্ত্রী নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরই মধ্যে সে (জিন্নাত আলী) স্থানীদের মাঝে নিজেকে ডাক্তার, উকিল, কমিউনিস্ট- কমরেড, পরিচয় দিতে থাকে। এর পর হঠাৎ হয়ে উঠে পুনর্বাসিত ১২৬ পরিবারের নেতা। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, জিন্নাত আলী যে ১২৬ পরিবার পুনর্বাসিতদের নেতা দাবী করে আসছে, তাদের কেউ পার্বত্যাঞ্চলে বসবাস করেন না। তারা সকলেই কুতুবদিয়া উপজেলায় রয়েছেন। লামা গয়ালমারা গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক আ:খালেক বলেন,”আমি এই গ্রামে ২৫ বছর ধরে বসবাস করছি, কিন্তু জিন্নাত আলী বা ১২৬ পরিবার কাউকে এখানে বসবাস করতে দেখিনাই”।

এ কৃষক আরো জানান, বিগত ৭/৮ বছর ধরে জিন্নাত আলীকে আমরা মাঝ মধ্যে দেখি, সে লাঠি-সোটা, দারালো অস্ত্রসহ ২০/৩০ জন অজ্ঞাত লোক সাথে নিয়ে এসে গ্রামের জমিজমাগুলো তাদের দাবী করে থাকে। গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখাতো। তার এই আগমন ছিল হঠাৎ, বছরে ১ বার কি দু’বার। সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেশি লোকজন নিয়ে সে ঘন ঘন এই এ গ্রামে যাওয়া আসা করে এবং পুরো গ্রাম তাদের দাবী করে হুমকি দিয়ে যায়। এর মধ্যে কয়েক দফা গ্রামের মানুষজনকে মারধরও করে সে। জানাযায়, সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর জিন্নাত আলী কুতুবদিয়া থেকে বেশ কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে এসে গ্রামবাসীদের দানের জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প দখল করে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে তাড়া করেন।জানাগেছে,এর আগে জিন্নাত আলী ওই এলাকায় বাগান উদ্যাক্তা মোহাম্মদীয়া জামিয়া শরীফের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, জমি সংক্রান্ত মনগড়া তথ্য দিয়ে হাই কোর্টে একটি রেট দাখিল করায়।

হাই কোর্টের আদেশে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থল গয়ালমারা আসবেন। এমন খবরে ১৯ নভেম্বর দুপুরে জিন্নাত আলী ও ক্যাহ্লাথোয়াই এর খুনের অভিযুক্ত ১ নং আসামী মুক্তারাম; এই দুই সন্ত্রাসী তাদের লোকজন নিয়ে পাশ্বর্তী কৌড়াতলী মুক্তার সওদাগরের খামারবাড়ি এলাকায় জড়ো হয়। ওই সময় তারা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানান ধরনের শ্লোগান দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জানাযায়, ৮/৯ বছর আগে ক্যাহ্লাথোয়াই মারমাকে হত্যার পর ঐ এলাকার স্বশস্ত্র সন্ত্রাস ও চাদাবাজির ডন বনেন এই মুক্তারাম ত্রিপুরা কারবারি। তবে সে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতা ও গোপনে সন্ত্রাসী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিক ২০১৩ সালের পর থেকে বিভিন্ন পদ পদবী পরিচয়দানকারী জিন্নাত আলী কুতু্বী সখ্যতা গড়ে তোলেন মুক্তারাম ত্রিপুরার সাথে। জানা গেছে, এরা দুইজন বিভিন্ন সময় পাহাড়ি ও বাঙালী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের কথা বলে সমাজে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান থাকলেও বাস্তবে পাহাড়ি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ গ্রুপের সাথে যোগসাজস রয়েছে তাদের।

খবর নিয়ে জানাযায়, এক সময় বামপন্থী কমরেড পরিচয়দানকারী এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া জিন্নাত আলী কুতুবী জেএসএস এর সাথে মিছিল মিটিং-এ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরোধী প্রকাশ্যে স্লোগান দিতেন। দেশের আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড সে অব্যাহত রেখেছে এখনও। সম্প্রতি লামার ফাসিয়াখালীর দূর্গম গয়ালমারা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি চৌকি দখল করান ব্যার্থ চেষ্টা প্রমান করে! জিন্নাত আলী কুতুবী কত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস, সমাজ দ্রোহী মানুষ। এই দুর্দর্ষ জবর দখলের পর আলোচনায় এসেছে জিন্নাত আলী কুতুবী ওরফে আলু গোলা। সম্প্রতি সে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে চলছে বলে জানাগেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Darpan 24
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin