
মোঃ খসরুনোমান সংগ্রাম, বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ২ ভারতীয় নাগরিককে স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার সময় যশোর জেল পুলিশ ও বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে ভারতের হরিদাসপুর আইসিপি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্বদেশে ফেরতরা হলেন, ভারতের উত্তর প্রদেশ বিহারের সীতামারহি জেলার মেজরগঞ্জ থানার সীতামনি-ডুমরি এলাকার সুনীল কুমার সিংয়ের ছেলে সন্দীপ কুমার সিং ও ঝাড়খন্ড প্রদেশের রাঁচি জেলার রাজুল্লাতু থানার সিনজুসেরেং এলাকার আতুয়া তোপ্পোর ছেলে অজয় তপ্পো।
জানা যায়, দীর্ঘ ৯ বছর জেল খাটার পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদেরকে ভারতীয় হাইকমিশনের কনস্যুলার বিভাগ, ৯ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে জারিকৃত মূল ভ্রমণের অনুমতিপত্র/নথিপত্র ইসি নং এক্স ১০০৭৮৮৪/ এক্স ১০০৭৮৮৫ মূলে ভারতের উত্তর ২৪ পরগণার পশ্চিম বঙ্গের হরিদাসপুর আইসিপি ইমিগ্রেশন ব্যুরোর সিনিয়র কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দু’দেশের সীমান্ত “বেনাপোল-পেট্রাপোল” আইসিপি ক্যাম্পের বিজিবি-বিএসএফ, কাস্টম ও পুলিশ সদস্যরা।
অপরদিকে ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে ভারতে পাচারের শিকার ১৫ বাংলাদেশি নারী ও শিশু বিভিন্ন মেয়াদে ভারতে সাজাভোগের পর ভারত সরকারের দেয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্টে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বের) রাত ৯ টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারী-শিশুরা যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও নড়াইল জেলার বাসিন্দা। আইনি সহায়তা দিতে রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামে দুটি এনজিও তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে তারা ভারতে গিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হয়েছিল। এদের বয়স ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
জাস্টিজ অ্যান্ড কেয়ারের যশোর শাখার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল মুহিত জানান, ভালো কাজের প্রলোভনে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে দালালের মাধ্যমে তারা ভারতে যান। এ সময় অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে জেলে পাঠায়। পরে আইনি সহায়তা দিতে ভারতীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের আদালত থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগের পর দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পায়। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা যদি পাচারকারীদের শনাক্ত করে আইনি সহায়তা চায়, তাহলে দেয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক মোঃ ইব্রাহিম আহমেদ জানান, ১৫ বাংলাদেশি নারী ও শিশু সাজা শেষে আজ রাতে দেশে ফিরেছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সেখান থেকে এনজিও সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এবং রাইটস যশোর নামে দুটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।