
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডেসটিনি গ্রুপের নিজস্ব সম্পত্তি রাজধানীর ফার্মগেইটে অবস্থিত আলপনা ছায়াচিত্র (প্রাঃ লিঃ) এর নামে ভূয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে চাকুরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডেসটিনি গ্রুপের বহিস্কৃত সেক্রেটারি মিজানুর রহমান (এফসিএস) এর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নোয়াখালী আমলি কোর্টে এ কে এম ফখরুল ইসলাম (৩২) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী এ কে এম ফখরুল ইসলাম দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেন, আমি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী ও পরিবেশক ছিলাম আর সেই সূত্রেই আমার সাথে মিজানুর রহমানের পরিচয়। নিজের জীবন ও পরিবারের ভরনপোষণ চালাতে যখন আমি চাকুরি খুঁজতে ছিলাম ঠিক সেই মূহুর্তে মিজান নিজেকে আলপনা ছায়াচিত্র (প্রা:) মালিক দাবি করে আমাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সে নির্বাহী পরিচালক, একমাত্র মালিক ও বোর্ড সভার মাধ্যমে এককভাবে পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং ট্রেড লাইসেন্সের অধিকারী (যাহা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন,ঢাকা,ট্রেড লাইসেন্স নং ১১৯১৯১ তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৯ইং ইস্যু ) তাহার সিনেমা হলটি পরিচালনা করার জন্য লোক দরকার তাদেরকে সে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিবে। যতদিন তার মালিকানা থাকবে ততদিন চাকরি করতে পারবে এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা দিবে। উপরোক্ত বাদী ও ১-৪ নং স্বাক্ষী আসামীর সাথে যোগাযোগ করলে আসামী জানায় যে চাকরী করতে হলে তাকে ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ) টাকা করে দিতে হবে এবং ম্যানেজার পদে মাসিক বেতন ২৫,০০০/= ( পঁচিশ হাজার) টাকা, আমি টাকা নেওয়ার পর দুই (২) মাসের মধ্যে চাকরি দিকে ব্যর্থ হলে ০৫/০৩/২০২০ ইং চুক্তি অনুযায়ী নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। সে মোতাবেক বাদী ও ১-৪ নং স্বাক্ষী আসামীর সহিত কথাবার্তা চুড়ান্ত করে এবং কথা হয় যে, শর্ত অনুযায়ী বাদী ও ১-৪ নং স্বাক্ষী টাকা যোগাড় করে খবর দিলে আসামী বাদীর বাসা হইতে চুক্তি সম্পাদন করে টাকা আনবে। এমতাবস্থায় ১-৪ নং স্বাক্ষী টাকা জোগাড় করলে বাদী আসামীকে সংবাদ দেয় এবং ১ম ঘটনার দিন ও সময়ে আসামী বাদীর বাসায় এসে স্বাক্ষীর মোকাবেলায় লিখিত চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করে মোট নগদ ৪,০০,০০০/= (চার লক্ষ) টাকা বাদীর নিকট থেকে গ্রহণ করেন।
আমাকে চাকুরী দেওয়ার নিমিত্তে জামানত হিসেবে নেওয়া টাকার গ্যারান্টি চাইলে মিজান বলে আমি ২ মাসের মধ্যে চাকুরী না দিতে পারলে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো কিন্তু তার দেওয়া সময় অতিবাহিত হলে তার সাথে যোগাযোগ করলে সে শুধু কাল ক্ষেপন করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জন্মালে উক্ত সিনেমা হলের বর্তমান ম্যানেজার মোঃ শামসুদ্দিন রাকিবের সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায় উক্ত সিনেমা হলের মালিক ডেসটিনি গ্রুপ পি এস ২ কোর্টের আদেশে মিজানুর রহমান উক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছিলো। প্রতারণামূলকভাবে জালিয়াতি করে ট্রেড লাইসেন্স করেছে। মিজানুর রহমান অত্র সিনেমা হলের কেউ না। তার সাথে মালিকানার কোন সম্পর্ক নাই। এমন কথা শুনে আমরা কয়েকজন স্বাক্ষীসহ গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং তারিখে মিজানুর রহমানের বর্তমান ঠিকানায় গেলে নগদ টাকা ও চাকুরী দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে বিজ্ঞ আদালতের স্বরনাপন্ন হই এবং বিজ্ঞ সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
এছাড়াও ডেসটিনি গ্রুপের বহিস্কৃত সেক্রেটারি মিজানুর রহমান (এফসিএস) এর বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোর্ট, কক্সবাজার কোর্ট ও পল্টন থানাসহ মোট ৪ টি প্রতারণা ও আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ার করণে ভুক্তভোগীগণ তাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে বহিষ্কৃত সেক্রেটারি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও তাহার নাম্বার বন্ধ থাকার করণে কথা বলা সম্ভব হয়নি।