
মোঃ শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:আত্রাই উপজেলা পাঁচুপুর গ্রামের মোঃ ইব্রাহীম আলীর ছেলে মোঃ তানজিলুর রহমানের (২৯) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।এলাকাবাসীদের দাবি মেধায় নয় তার চাকুরী হয়েছে অবৈধ পথ অবলম্বন করে। এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করলে একের পর এক বেরিয়ে আসে পারগুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরী হওয়ার মূল কিচ্ছা কাহিনী।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালে সহকারী শিক্ষক (শূন্য) পদে চাকুরীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,মিরপুর সেকশন-০২ মিরপুর ঢাকা -১২১৬। উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত তানজিনুর রহমান প্রার্থী হিসাবে আবেদন করেন। পরবর্তীতে (ক) সে ০৩ জুন ২০২২ইং ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কেন্দ্র নওগাঁ চাকুরী প্রার্থী হিসাবে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।(খ) ০৭ আগষ্ট ২০২২ইং সে মৌখিক পরীক্ষায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে সকাল ১০ ঘটিকায় অংশগ্রহণ করেন। (গ) ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ইং আত্রাই উপজেলার পারগুড়নই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন।বর্তমানে অভিযুক্ত তানজিলুর উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
একাধিক কল রেকর্ড এর সূত্র থেকে জানাযায়,নিয়োগ বানিজ্যের মূল হোতা হামিদুল (৬০) সাথে চাকুরীর জন্য ঘুষের টাকার রফদফা করেন অভিযুক্ত তানজিলুর রহমানের পিতা মোঃ ইব্রাহীম আলী (শিক্ষক),মাতা মোছাঃ ছামছুন নাহার ও মামা মোঃ আজাহার আলী (৪০) (সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা, ঢাকা)।
কল রেকর্ড সূত্রে তার মায়ের ভাষ্যমতে নিয়োগ বানিজ্যের মূলহোতা হামিদুল ইসলাম ওরফে হামানের (৬০) সাথে ঘুষের টাকার রফাদফা ও টাকা পায়সা লেনদেন হয় তার মামা ব্যাংকার আজাহার আলীর। এবিষয়ে জানার জন্য হামিদুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে; প্রথমে সে সকল তথ্য এড়িয়ে গেলে ও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে কৌশলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে তানজিলুর রহমানের বাবা, মা ও তার ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলে তারা কেউ কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার মামা ব্যাংক কর্মকর্তা আজাহার আলীর সাথে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার তেমন কিছু জানেন না বলেন,এবং প্রতিবেদকের প্রশ্নের তোপের মুখে পড়ে কৌশলে অস্বীকার করে অপরপ্রান্ত থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল দিয়ে ও তার আর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে সে মুঠোফোন বন্ধ করে রাখেন।
এবিষয় নিয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির সভাপতি খালিদ মেহেদী হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি ঘটনার বিস্তারিত শুনে বলেন,যদি কেউ এভাবে অবৈধ পথ অবলম্বন করে চাকুরী হাতিয়ে নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা (প্রাথমিক) শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রেজার সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত শুনে অপরপ্রান্ত থেকে বলেন,যদি সে (তানজিনুর) অবৈধ পথ অবলম্বন করে সত্যিই চাকুরী হাতিয়ে নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এখন অবগত হইলাম আমহলি আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবো এবং তথ্য প্রমাণ হাতে আসলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এই অপরাধের কি ধরনের শাস্তি হতে পারে?প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সরকারের আদেশ নিষেধ অমান্য করে অবৈধ পথে অবলম্বন করে চাকুরী হাতিয়ে নেওয়া ফৌজদারি অপরাধ।এই অপরাধে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ থেকে ফৌজদারি আইনে মামলা হয়।সেই সাথে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার চাকুরী থাকবেনা।