শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিকের পর এবার কুমিল্লা ও উত্তরায় ৬ সাংবাদিকের ওপর হামলা – বিএমএসএফের প্রতিবাদ ভ্যানচালক রাজুর উন্নত চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান নতুন তথ্য মন্ত্রীকে বিএমএসএফের শুভেচ্ছা হরিপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন, সফল মৎস্যচাষীদের বিশেষ সম্মাননা সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেফতার; মুক্তির দাবি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম ফুলপুরে অসহায় শাবানার পাশে বিএমএসএফের সদস্যরা সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করুন হরিপুরে সাপের কামড়ে ঘুমন্ত নারীর মৃত্যু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুমিল্লায় সাংবাদিক ইউনিয়নের মানববন্ধন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দালালদের রাজত্ব!

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬৫৩ Time View

তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর-তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের একটি সনামধন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অধুনালুপ্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার প্রায় ৪ কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল এ হাসপাতাল। কলেজ নিয়ে কোন কথা না উঠলেও হাসপাতালে ছিলো যত দুর্নীতি অনিয়মের ভরা। হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মচারী থাকলেও করা হতো না নিয়মিত পরিস্কার পরিছন্নতার কাজ ফলে অপরিস্কার আর দুর্গন্ধের মাঝেই করা হতো রোগীদের চিকিৎসা।ছিলো বিভিন্ন দালাদের তৎপরতা বিনামূল্যে সরবরাহ করা ঔষধ দেওয়া হতো না রোগীদের তার বদলে বাহিরের ফার্মেসী থেকে কিনতে হতো চড়াদামে। হাসপাতালের খাবার মানহীন বলে অভিযোগ ছিল ভুড়ি ভুড়ি। একটা সময় হাসপাতালের সামনে দালালদের উপচে পড়া ভীড় ছিলো। সাধারণ মানুষ অনেক সময় হাসপাতালে যেতে ভয় পেত,না জানি দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হয়! কিন্তু বর্তমান দালাললের বিচরণ প্রায় নেই বললেই চলে। ২০১৫ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নাসির উদ্দীন হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর হতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণ হতে একে একে দূর হতে থাকে বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্ণীতি। পাল্টাতে থাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। বদলাতে শুরু করে চারপাশের পরিবেশের চিত্র ময়লার স্তুপ থেকে হয়েছে বিনোদনের স্থান রোগীরা পেয়েছেন বিনামূল্যে ঔষধ,তিন বেলা ভালো মানের খাবার,চালু হয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অনস্টপ সার্ভিস ইত্যাদি।তারই ধারাবাহিকতায় দেশের সেবাদানকারী হাসপাতালের গৌরব অর্জন করে, এই হাসপাতালটি। এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে প্রতিটি ভবনের দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো নোটিশে বলা হয়েছে ‘হাসপাতালে সরবরাহকৃত সরকারী ঔষধ শতভাগ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। যা তার আমলেই হয়েছে। যার একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে গড়ে তুলেন একটি আধুনিক হাসপাতালে। যার ফলে বার বার পেয়েছে দেশের সেরা হাসপাতালে স্বীকৃতি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুম বা বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে অভিযোগ নাম্বার দেয়া আছে, যদি কেউ পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা হতে বঞ্চিত হয় বা ডাক্তারদের কোনো অবহেলা থাকে। তাহলে যেকেউ প্রয়োজনীয় অভিযোগ করতে পারবে। যা দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসালয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও নেই। কিছু অসাধু সিন্ডিকেটের এই সকল কার্যক্রমে তাদের ব্যবসায়ী মুনাফা হাসিলের জন্যে উঠে পরে লাগে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের পিছনে অবশেষে তাদেরই জয় হয়। হেরে যায় ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষ। তাকে অনেকটা বাধ্য করা হয় বদলি হওয়ার জন্য অবশেষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি বদলি হোন, তারপর থেকেই পাল্টে যায় হাসপাতালের চিত্র আবার শুরু হয়ে যায় দালালদের দৌরাত্ম্য।

ইদানীং আবার শুরু হয়েছে সেই অন্ধকারের পথে হাটা। বিভিন্ন রোগীর স্বজনের কাছ থেকে জানযায় এখন বিনামূল্যে পাচ্ছে না কোন ঔষধ বাধ্য হয়ে বাহিরের ফার্মেসী থেকে কিনে নিতে হচ্ছে। আরো একটি বিষয় চোখে পরে হাসপাতালটির ঠিক সামনেই ব্যাঙের ছাতার গড়ে উঠছে প্রায় অর্ধশতর বেশী ক্লিনিক প্যাথলজি ইত্যাদি। যেগুলোতে নিয়োগ করা হয়েছে দালাল বাহিনী যাদের কাজ হলো মেডিকেলের ভেতর থেকে রোগীদে বিভিন্ন কায়দায় রোগীদের তাদের প্যাথলজি কিংবা ক্লিনিকে নিয়া আসা এবং তাদের ক্লিনিক গুলোতে বেশি খরচে নিম্ন মানের টেস্ট করানো।আর্শীবাদপুষ্ট এক শ্রেনীর চিকিৎসক মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই এ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট বারোটা বাজিয়েছে ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থার। ফোকলা করে দিয়েছে হাসপাতালগুলোর অন্দর বাহির। এদের দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রতারণা ওপেন সিক্রেট। এরকম চলতে থাকলে হয়তো আবার অন্ধকার অনিয়ম আর দালালের দৌরাত্ম্যের হারিয়ে যাবে প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবার মান মুখ ফিরিয়ে নেবে মানুষ, বঞ্চিত হবে দরিদ্র অসহায় আর হয়তো কোন একদিন অসহায় মানুষ গুলো পাবে না স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা। দেশের চার শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে যায় স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত খরচের জন্য। এ থেকেই বোঝা যায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কত খারাপ। অসুস্থতার কারণে সম্পদ বিক্রি এবং দরিদ্রতার নিম্নস্তরে নেমে আসা এদেশে খুব ব্যতিক্রম নয়।

সাধারন জনগনের দাবী অচিরেই সব কিছু যথাযথ কর্তৃপক্ষের মনিটরিং এর মাধ্যমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দালাল মুক্ত হাসপাতাল করে নিরাপদ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হোক এবং সকল ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হোক। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যে মানুষের অধিকার, কারো দয়া বা করুণার বিষয় নয় । এটাও সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বোঝানো এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যারা সেবা প্রদানকারীর ভূমিকায় আছেন তাদের জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরির জন্য সচেষ্ট হতে হবে।এমনটাই দাবি সাধারণ মানুষের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Darpan 24
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin