
মোঃ শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:শিল্পাঞ্চাল সাভার এখন মৃত্যু পুরিতে পরিণত হয়েছে।তাই ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে আচমকা মৃত্যুর মিছিল,এই জনবহুল উপজেলায় এখন কারো জীবনের-ই কোন নিরাপত্তা নেই।প্রতিনিয়ত ছিনতাইকারী আর সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হচ্ছে মানুষ, পুরো উপজেলায় এখন রাজত্ব করছে ছিনতাইকারী আর সন্ত্রাসীরা।তাদের তান্ডব নীলার কাছে যেনো এতিম অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় আবারও খুনের ঘটনা ঘটেছে।আজ দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শহীদুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার ছাঁয়াবিথী মহল্লার আমতলা এলাকায় এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে ছুটে এসে তাকে দ্রুত সুপার ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
নিহত যুবক শহিদুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলা হাট থানার চরধরমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম এর ছেলে।তিনি সাভারের ছাঁয়াবিথি এলাকার ফিউচার ডেন্টাল চেম্বারে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ফিউচার ডেন্টালের মালিক মোঃ বেলাল উদ্দিন বলেন, দুপুর ১ টা থেকে দেড়টার মধ্যে শহিদুল বাসা থেকে বের হয়ে ছাঁয়াবিথীর আমতলা এলাকায় যায়। প্রায় আধাঘণ্টা পরই আমার কাছে খবর আসে শহিদুল কে কেউ ছুরিকাঘাত করেছে। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাভারের সুপার ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেখান থেকে এনাম মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার পর তিনি মারা যান। শহিদুলের পকেটে একটি মোবাইল ফোন ছিল। ছিনতাইকারীরা সেটি ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের শরীরের প্রাথমিক সুরতহাল চলছে। তদন্ত করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৭ দিন আগে একই এলাকায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে। এঘটনায় কিশোর গ্যাং পিনিক রাব্বি গ্রুপের রাজিব শিকদার ওরফে কিলার রাজিব নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আজ থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।
এলাকাবাসী সহ সচেতন মহলের দাবি প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা না থাকায় সাভার দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। আরও বলেন কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে গুম,খুন,হত্যা, ছিনতাই এগুলো কিছুই হ্রাস পাবেনা। তাই অতিদ্রুত এদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এমনটায় জানান তারা।