
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে প্রতি ৫ বছর পর পর জাতীয় পর্য়ায়ে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন মূহূর্তে জনগণের মনে আনন্দ,উল্লাস,উৎকন্ঠা ভরপুর থাকে। স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য সবচেয়ে নিম্নস্তরের নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে নিজ নিজ আত্নীয় স্বজনদের মাঝে সৃষ্টি হয় বিভেদ-বিদ্বেস ও বিশৃঙ্খলা।
ইউপি নির্বাচনে চাটুকাররা লেজুড়বৃত্তি বা তেলবাজী করে তারা কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে চলে যাবে নির্বাচনে দাঁড়ানো এক প্রার্থীর কাছে সেখানে সেই প্রার্থীর পক্ষে গাইবে প্রশংসার ফুলঝুরি এবং বলবে আপনার মত সৎ, নির্ভীক, দয়ালু,আদর্শবান প্রার্থী আর কেউ নেই,আমি এবং আমার আত্নীয় স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীসহ শতশত লোক নিয়ে আপনার পক্ষে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি, আপনার বিজয় সুনিশ্চিত।
এভাবে চাটুকাররা কথা বলে ঔ প্রার্থীর কাছে সুবিধা নিয়ে দুপুর বেলায় চলে যাবে অন্য এক প্রার্থীর কাছে সেখানে সেই প্রার্থীর প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ করে কিছু সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে বিকেল বেলায় ও সন্ধ্যায় যাবে আরেক প্রার্থীর কাছে সেখানেই প্রশংসার ফুলঝুড়ি ঘটিয়ে সুবিধাভোগ করবে চাটুকাররা।
দিনশেষে চাটুকাররা জাদু দেখিয়ে লেজুড়বৃত্তি বা তেলবাজী করে নির্বাচনে দাঁড়ানো সকল প্রার্থীর সাথে আঁতাত রেখে পথ চলবে একসাথে।
গ্রামে-গঞ্জে থাকে অসংখ্য ক্লাব, ফাউন্ডেশন এছাড়াও নির্বাচন কেন্দ্রিক গড়ে উঠে অসংখ্য ক্লাব বা ফাউন্ডেশন।
এই ক্লাব ও ফাউন্ডেশনগুলোর সদস্যরা নির্বাচনকালীন শুরু করেন সুবিধাগ্রহনের জন্য বিভিন্ন ফন্দিফিকিরি প্রার্থীদের বলেন আমাদের এই সুবিধা দিলে ক্লাবের সকল সদস্যদের ভোট যাবে আপনার বাক্সে আপনার বিজয় নিশ্চিত এভাবে ক্লাব বা ফাউন্ডেশনের চাটুকাররা জাদু দেখিয়ে সকল প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা নিবে।
এছাড়াও নির্বাচনের সময় গ্রাম-গঞ্জের অনেক চাটুকাররা জাদু দেখিয়ে নির্বাচনে দাড়াঁনো সকল প্রার্থীকে ভোট দিবে বলে প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা নিবে ভোট কাকে দিবে তিনি নিজেই জানেনা।
এক্ষেত্রে নির্বাচনে দাড়াঁনো চাটুকার প্রার্থীরাও কম যায়না নির্বাচনের সময় জনগণকে দিবে শত শত প্রতিশ্রুতি এবং বলবে অমুক কেন্দ্রীয় নেতার সাথে আমার খুবই ভাল সম্পর্ক আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার ঘটিয়ে দিব।
এছাড়াও বিভিন্ন অবাঞ্ছিত, মাদকসেবী, দুর্নীতিবাজ প্রার্থীরা বড় বড় নেতার সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করে গলাবাজি করে বলবে অমুক নেতা আমার খুব কাছের লোক তিনাকে যা বলি তিনি তা শুনে আমার কাজ করে দেয়, তাই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে এলাকার উন্নয়নে শতভাগ ভুমিকা রাখুন।
নির্বাচনে চাটুকার প্রার্থীরা জয়লাভ করার পর কোনরূপ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে দুর্নীতির দিকে অগ্রসর হয়ে অবৈধভাবে পথ চলে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে অবিরাম।
নির্বাচনে সুধীজনরা চাই সুষ্ঠু, সুন্দুর নিরপেক্ষ ভোট হোক।
এই ভোটের মাধ্যমে চাটুকার প্রার্থীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সৎ, যোগ্য,নির্ভীক,আদর্শবান প্রার্থীরা জয়লাভ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে এটাই জনগণের কাম্য।