
রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরকিয়া আসক্ত স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন নাছিমা আক্তার নামের এক গৃহবধূ। শুধু তাই নয়, ওই গৃহবধূর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ টাকা আতœসাৎ করার পর পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় তালাক দেয়ার হুমকী দিচ্ছে স্বামী শামীম মিয়া। এতে ৭ বছরের কন্যা সন্তান সারাহকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা রয়েছেন ওই গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বৌড়ার টেক এলাকায়।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাছিমা আক্তার জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পূর্বে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাদিরারটেক এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের ছেলে শামীম মিয়া(৪০)র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সংসারে ৭ বছরের সারাহ নামীয় এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এতা বছর ধরে সংসার শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও বিগত ২ বছর পূর্বে তার স্বামী শামীম মিয়া অহনা নামীয় এক মেয়ের সঙ্গে পরকিয়া আসক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় এ নিয়ে প্রতিবাদ করার তাকে বেধম মারধর করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন উপায়ে তার স্বামী শামীম মিয়া, শশুর আব্দুল মান্নান মিয়া এবং শাশুড়ী পেয়ারা বেগমসহ শশুড়বাড়ির লোকজন নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে। পরে রূপগঞ্জ থানায় ও নারায়ণগঞ্জ আদালতে একাধিক নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ওইসময় স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে আবার উভয়ে সংসার করে আসছিলেন। এর আগে তিনি তার নিজ জেলা পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় নিজ অর্থায়নে একটি বিউটি পাল্র্ার এবং কসমেটিক শোরুম দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। এছাড়াও একটি রপ্তানিমূখী গার্মেন্স কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো ঢাকায় প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা বলে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় শামীম। সম্প্রতি এসব টাকার হিসেব চাইলে শামীম ও শশুরবাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একই কারনে,গত ১ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকালে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়।
এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রতিবেশির বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। পরে মিমাংসার চেষ্টায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে শুক্রবার সকালে প্রতিবেশিদের নিয়ে শশুড়বাড়ি তুলে দিতে গেলে সবার সামনেই গৃহবধূ নাছিমা আক্তারকে মারধর শুরু করে শামীম ও তার শশুড় মান্নান মিয়া। এতে আহত হয়ে পড়লে প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দারে করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ আরো জানান, এসব টাকা চাইলে তালাক দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবে বলে হুমকী দিচ্ছে। এখন সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত শামীম মিয়ার মুঠোফোনে জানতে চাইলে পরকিয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সংসার করলে একটু আধটু মারধর কিংবা লেনাদেনা হয়েই থাকে। টাকা আতœসাতের প্রমান দিতে পারলে ফেরত দেয়া হবে। যদি নিয়েও থাকি তা সংসারের জন্যই খরচ করেছি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফএম সায়েদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আঁওতায় আনা হবে।