লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের সাংবাদিক হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই লক্ষ্মীপুরে মব তৈরি করে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হয়েছেন সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
জাতীয় নিউজভিত্তিক টেলিভিশন স্টার নিউজ এবং দৈনিক জনবাণী পত্রিকার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি আন নাজমুস সাকিব এ অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৫ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যায় জেলার জকসিন বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার একটি সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম ও পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একদল কর্মী সাংবাদিক সাকিবকে হেনস্তা করে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও নজরুল ইসলাম বারবার তার দিকে তেড়ে আসেন। প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে তারা “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দিয়ে স্থানীয়দের উত্তেজিত করে হামলার পরিবেশ তৈরি করেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সাংবাদিক সেখান থেকে সরে আসেন।
সাংবাদিক আন নাজমুস সাকিব জানান, “জকসিন বাজারে কয়েকদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা বেড়েছে বলে তথ্য পাই। শুক্রবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ ছাত্রদলের একটি অনুষ্ঠান কাভার করার পর জকসিন বাজার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দেখি কিশোরদের হামলার শিকার হয়ে মাসুম নামের এক ছেলে কান্না করছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা তখন হামলাকারী কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। এরই মধ্যে অভিযুক্তদের ফোনে মুক্তিগঞ্জ থেকে রবিউলসহ আরও কয়েকজন আসে। পরে নজরুল ইসলাম এসে তাদের নিয়ে জকসিন বাসস্টেশনের পূর্ব পাশে চলে যায়।”
ভুক্তভোগী মাসুম জানায়, “আমার বাড়ি লাহারকান্দি ইউনিয়নের মদিনা বেকারির পাশে। কয়েকদিন ধরে মসিদবাড়ির জামালের ছেলে বাপ্পি ও মাঝিবাড়ির ফাহিমসহ কয়েকজন আমাকে তাদের বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বলছিল। আমি রাজি হইনি। তাই শুক্রবার বাজারে গেলে তারা ১৫-২০ জন মিলে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি অনেক কান্না করলেও ভয়ে কেউ কাছে আসেনি। পরে ব্যবসায়ীরা তাদের কয়েকজনকে ধরে ফেলে। একপর্যায়ে নজরুল এসে ছেলেগুলোকে নিয়ে যায়। আমি মার খেলাম কিন্তু কোনো বিচার পেলাম না।”
সাংবাদিক সাকিব আরও জানান, “আমি বাস কাউন্টারের পূর্ব পাশে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তদের ভিডিও করতে চাইলে নজরুলসহ কয়েকজন আমার ওপর চড়াও হয়। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে এক পাশে নিয়ে যায় এবং মিথ্যা স্লোগান তুলে মব তৈরি করে হামলার চেষ্টা করে। আমি বিষয়টি বুঝে দ্রুত সরে আসি। এরপর নজরুলের নেতৃত্বে কয়েকজন হুমকি দেয়, আমার কাছে তথ্য দেওয়ায় ভুক্তভোগী মাসুমকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
মাসুমের বাবা বলেন, “আমি এক চোখে অন্ধ। আমার ছেলে গ্যারেজে কাজ করে সংসার চালায়। এখন তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোনো সময় আবারও ওর ওপর হামলা হতে পারে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন আহমেদ হেলাল সাংবাদিক হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সতর্ক করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাংবাদিক সমাজ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)