লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে বাড়ি নির্মাণে চাঁদা না দেওয়ার কারণেই বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ রেজাউল করিম প্রকাশ বাবু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন’র মিথ্যা অভিযোগ তুলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় অভিযোগ দেন তিনি। এতে পৌর কর্তৃপক্ষ তদন্ত বা পরিমাপ ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয় বাড়ির নির্মাণ কাজ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় দশ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী। এদিকে অভিযুক্তের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রবাসীর পরিবার।
চাঁদা দাবি কারী মোঃ রেজাউর করিম (বাবু) পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডস্থ বাঞ্চানগরের নুর মোহাম্মদের ছেলে। ভুক্তভোগী কাতার প্রবাসী খোরশেদ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডস্থ দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে। তাঁর মালিকানা জমিটি পৌর ৬ নং ওয়ার্ডস্থ সুলতান কমিশনার সড়কের আনু বেপারী বাড়ির মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়।
প্রবাসী খোরশেদ এর স্ত্রী ও আত্মীয় মঞ্জু হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জমি ক্রয় পরবর্তী একাধিকবার চাঁদা (টাকা) দিতে হয়েছে রেজাউলকে। স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়ায় জমি রক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তায় চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছে খোরশেদ। চলতি বছরের জুলাই মাসে পুনরায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় রেজাউলকে আসামী করে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করা হয়। যা এখনো চলমান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য’র বিষয় উল্লেখ করে পৌরসভায় অভিযোগ দেন রেজাউল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌরসভাও তদন্ত কিংবা পরিমাপ ছাড়া খোরশেদের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে রড, সিমেন্টসহ দশ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও বলেন, খোরশেদের ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো পৌরসভা ও আদালতে একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন রেজাউল। প্রত্যেকবার মোটা অংকের টাকা আদায় করে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নিতেন। রেজাউল নিজে বাড়ি নির্মাণের সময় ইমারত নির্মাণ আইন ভঙ্গ করেছেন। অন্যের বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে দেয়াল ও সরকারি রাস্তার ওপর ছাদ দিয়ে ব্লিডিং নির্মাণ করেছেন।
গত ২০২২ সালে ২৩২৯ নং দলিল মূলে শাকিল ও তাঁর স্ত্রী রুনা আক্তারের (পুত্রবধু) থেকে জমিটি ক্রয় করেন খোরশেদ। বাঞ্চানগর মৌজার যাহা আপোষ বন্টন মতে নামজারী জমা খারিজ ৯৯১১ নং খতিয়ানের ৮৩৫৭ দাগ বর্তমান জরীপের আর.এস ৩৭৫২ খতিয়ানের ১১০২৩ এবং ১১০২৪ দাগের অধীনে সোয়া চার শতাংশ জমি।
জমিটি গত ২০১৯ সালে ১২২ নং দলিল মূলে শাকিল ও রুনা আক্তার ক্রয় করেছেন মোঃ রেজাউল করিম থেকে। এছাড়া আরও ০.১৪৫ শতাংশ জমি মো. রেজাউল করিম ও মোখলেছুর রহমানের ছেলে মোঃ মহরম আলীর থেকে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। যা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয় উভয় পক্ষ। তবে এখনো ওই জমিটি খোরশেদকে রেজিস্ট্রি দেওয়া হয়নি।
আরও জানা গেছে, নিজ ক্রয়কৃত জমিতে খোরশেদ বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছে। ইতোমধ্যে ২য় তলার কাজ শেষ হয়ে ৩য় তলার কাজ চলছে। এ অবস্থায় ইমারত নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের কথা বলে পৌরসভায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন রেজাউল। ওই অভিযোগে বাড়ি নির্মাণের কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, রেজাউল প্রবাসী খোরশেদের জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো হয়রানি করছে। কয়েক দফায় বিভিন্ন অযুহাতে চাঁদাও (টাকা) নিয়েছে। এখন আবার চাঁদা দাবি করছে রেজাউল করিম।
প্রবাসীর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বলেন, চাঁদাবাজ রেজাউল ও তাঁর সহযোগীদের যন্ত্রণায় অতীষ্ঠ আমরা। তিনি আমাদের জমি বুঝিয়ে না দিয়ে বারবার পৌরসভায় মিথ্যা অভিযোগ ও আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আবার টাকা দিলে সেগুলো নিজেই প্রত্যাহার করে নেন। এখন আবার নতুন করে পৌরসভায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রেজাউলদের বারবার চাঁদা (টাকা) দেওয়ায় কাল হয়েছে প্রবাসী খোরশেদের। এখন কিছুদিন পর পরই তারা খোরশেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া অভিযোগ দেয়। চাহিদা অনুযায়ী টাকা পেলে সেটি প্রত্যাহারও করে নেয়। রেজাউলরা প্রভাবশালী ও মাদকসেবী হওয়ায় ভয়ে তাদের এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ কেউ করছে না।
মনিরুল ইসলাম (স্থানীয় সার্ভেয়ার) বলেন, খোরশেদের ক্রয়কৃত সোয়া ৪ শতাংশ জমি তাঁর ভোগদখলে পাওয়া যায়নি। তখন রেজাউল ও শালিসদারদের নির্দেশে রাস্তার জমি পরিমাপ করে খোরশেদকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আইনগতভাবে সরকারি জমি বিক্রি ও কাউকে মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রেজাউল করিম বলেন, খোরশেদ ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এজন্য পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছি। তাই আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছে তারা। তবে একসময় ঋণ হিসাবে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম।
আরও বলেন, আমি জমি বিক্রি করেছি শাকিলের কাছে। তাই খোরশেদকে জমি বুঝিয়ে দিবো কেন। তবে সমঝোতা ও মনের মিল থাকলে অনেক কিছু হয়। কিন্তু খোরশেদের সঙ্গে মনের মিল নেই। তবে সমঝোতা কি চাঁদা দেওয়া (টাকা)? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি রেজাউল।
খোরশেদের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধের বিষয়ে কোন বক্তব্য জানা যায়নি লক্ষ্মীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের থেকে। তবে এসব বিষয়ে লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বেশ্বর দাস চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি জানা নেই। তবে কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)