মোঃ খসরুনোমান সংগ্রাম,বেনাপোল থেকে : বেনাপোল চেকপোস্টে বিভিন্ন প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে দিনের আলোয় পাসপোর্ট যাত্রীর টাকা ছিনতাই। বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ,বিজিবি,এনএসআই, ডিজিএফআই সহ বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সোনালী ব্যাংকের সামনে,বর্ডারের বাস টার্মিনালের দুই পাশের গেটের সামনে,ইউনুস মার্কেট, রেজাউল মার্কেট,মোহাম্মদ আলী মার্কেট,চৌধুরী মার্কেট সহ বর্ডারের বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা অবাধে ঘুরছে।ছিনতাই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্টোর ও এন্টারপ্রাইজের সাইনবোর্ড লাগানো ঘরে যাত্রী দের নিয়ে টার্গেট করছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীদেরকে কুচক্রি সদস্যরা একটি ঘরে নিয়ে যায়, যেখানে আরও সদস্য থাকে। এরপর শুরু হয় আসল কাহিনী।অনলাইনে ফরম পুরন করে সেখানে টাকার নাম্বারগুলো লিখতে হবে বলে যাত্রীর টাকা গুনতে গুনতে কুচক্রি সদস্যরা কৌশলে টেবিলের নিচে ফেলে দেয়। অনেক সময় ডলারের নাম্বার লিখতে হবে বলে ডলার ও হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে আর এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র।
প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সোনালী ব্যাংকের বুথের সামনে থেকে যাত্রীদের ধরে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে কুচক্রির সদস্যরা অথচ সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পোর্ট থানার পুলিশ,আনসার,সিকিউরিটি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের লোকজন থাকেন নিরব ভূমিকায়।ছিনতাই চক্রের সদস্যরা অবাধে চলাফেরার কারণে যাত্রীরা ভয়ে টার্মিনাল ব্যবহার করছে।
কোনও পাসপোর্ট যাত্রী যদি সাহস করে পুলিশের কাছে তার টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ করে তখন পুলিশ সেই যাত্রী সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে যেখান থেকে টাকা ছিনতাই হয়েছে সেখানে এবং তার টাকা উদ্ধার করে দিচ্ছে অনেক সময় সম্পূর্ণ টাকা উদ্ধার হয় না, যা উদ্ধার হয় তাই দিয়ে যাত্রীকে বুঝিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।পুলিশ টাকা উদ্ধার করলে ও ছিনতাই পার্টির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেই না বলে অভিযোগ রয়েছে।যার ফলে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়ে।
সাবেক অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত এসব ঘর তালাবদ্ধ করেছিলেন কিন্তু তার বদলি হওয়ার পরে নতুন ওসি পোষ্টিংয়ের কারণে পুনরায় ছিনতাই শুরু হয়েছে।
বিষয়টি জানালে পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশ পাঠান, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
কিছু দিন আগে বন্দরের বিভিন্ন কাজে সহায়তার জন্য নির্বাহী অফিসার(ম্যাজিস্ট্রেট) নিয়োগ দেওয়া হলে ও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে আবারও অবাধে চলছে ছিনতাই।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন:-এসব দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বন্দরে নিয়োজিত পুলিশ, আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরা শুধুমাত্র বন্দরের কাজে নিয়োজিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)