লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদি ইউনিয়নের হাসন্দি গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বংশাল থানা জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যান পরিষদের সভাপতি মাসুদ আলমের ভাই রুবেল রানা (৩৮) নামে এক বিএনপি কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টায় গুরুতর জখম করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে তাকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
আহত রুবেল পেশায় একজন পিকআপ চালক। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম। ঘটনার সময় তিনি ভাত খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সুমাইয়ার স্বামী মাসুূদ আলম বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলে বসে হর্ণ বাজিয়ে থাকে তখন সুমাইয়া এসে রুবেলকে ডেকে নিয়ে বাড়ির অদূরে আক্রমণ চালায়।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, “রুবেলের পেটে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখম রয়েছে। ফুসফুস ও কিডনিতে আঘাত লাগার আশঙ্কায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।”
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মাডার মামলা আছে, এবং মাদকের -সম্পৃক্ত মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে মোটরসাইকেলে এসে তার স্ত্রী সুমাইয়াকে দিয়ে রুবেলকে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যায় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় রুবেলের মা মনোয়ারা বেগম, বোন পান্না আক্তারসহ স্বজনরা এ অভিযোগ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
এ ঘটনায় মাসুদ ও সুমাইয়াকে আসামি করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে রুবেলের পরিবার।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)