সেদিন স্বামী-স্ত্রী গাড়িতে বসে ছিলো,বসে ছিল একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে।তবু শেষ রক্ষা হল না। স্বামীকে আটকিয়ে রেখে গণধর্ষণ করা হল স্ত্রীকে আহ্!শুক্রবার ছুটির দিনে স্বামী-স্ত্রী ঘুরতে এসেছিল সিলেটের এমসি কলেজ এলাকায়।কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি রেখে কেনাকাটা করে আবার সন্ধ্যার পর ফিরে এসে গাড়িতেই বসে ছিলেো দুজন।
সেই অবস্থায় গাড়ি থেকে তাদের নামানো হলো; স্ত্রীকে জোড় করে তিনটি কুকুর তুলে নিয়ে গেলো এমসি কলেজ হোস্টেলের সাত নাম্বার ব্লকের একটি রুমের সামনে।রুমটা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংঘঠন ছাত্রলীগ নামধারী ধর্ষকদের দখলে ছিলো।তারা স্বামীকে গাড়ীতে আটকিয়ে রাখে, দুটি কুকুর পাহারায় থাকে।বাঁকিরা স্ত্রীকে তুলে নিয়ে সেই রুমের সামনে পালাক্রমে গণধর্ষণ শুরু করে বেশ আনন্দে।রাত্রি তখন প্রায় ০৮ টা বাজে।
স্বামী চিৎকার করে,অনেক যন্ত্রণা দায়ক আকাশ বাতাস কম্পিত করা অসহায় চিৎকার। ভয়ে কেউ এগিয়ে আসে না।দূরের বিল্ডিং থেকে স্ত্রীর গনধর্ষণের দূর্বিষহ করুণ চিৎকার ভেসে আসছে আহ্!
কেউ এগিয়ে আসে না। ওরা রাজনীতি করে। ওদের হাতে সকল ক্ষমতা।ওরাই এখন বাংলার বুকে সকল ক্ষমতার অধিকারী। তাই কলেজ হোস্টেল বন্ধ থাকলেও ওরা ঠিকই হোস্টেল দখল করে রেখেছিল।কলেজের অধ্যক্ষ বহুবার পুলিশ কমপ্লেইন করেও কোন বিচার পায়নি।অধ্যক্ষ গণমাধ্যমে মাথা নিচু করে বলেন,আমি অসহায় (আফসোস!)।
ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীদের কক্ষ হতে এখন উদ্ধার হচ্ছে পাইপগান, রামদা, চাপাতি, চাকু ইত্যাদি।
এক ঘণ্টা পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে কুকুর গুলো পালিয়ে যায়। গণধর্ষণের ক্ষত বিক্ষত, বিধ্বস্ত স্ত্রীকে কোলে তুলে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটতে থাকে অসহায় স্বামী।
(আমি লজ্জিত বাংলার নাগরিক)
কিছু করার নেই তো আমাদের কেননা,এইটাই তো এখনকার বাংলাদেশ। স্বামী-স্ত্রী একত্রে নিজেদের ব্যাক্তিগত গাড়িতে ও এখন নিরাপদ নয়।স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়।
গত কয়েক মাস আগে ঢাকার ব্যস্ততম ফুটপাতে বিশ্ব-
বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়,কয়েক সপ্তাহ আগে কুমিল্লার বাসে এক গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণ করা হয়,তণু কে দেশের সর্বচ্চো নিরাপদ স্থান সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়।
ধর্ষিতা নার্গিস, বিউট সহ বাঁকিদের কথা বাদ-ই দিলাম।যাইহোক তখন মেয়েটি একা ছিলো, মেয়েটির পোশাক খারাপ ছিলো, কেন একা বের হল? এইসব বলে আর আমার অসহায় মা-বোনদের দোষী করবেন না।
আজ মেয়েটি তার সবচাইতে বিশ্বস্ত গার্জিয়েনকে সাথে রেখেও জনবহুলপূর্ণ একটি এলাকায় নিরাপদ থাকতে পারল না।আহ্! সদ্য বিবাহিত,মেয়েটির হাত থেকে হয়তো এখনো মেহেদির দাগ উঠেনি।বিশ বছর বয়সী মেয়েটি স্বামী থাকা অবস্থাতে ও স্বামীর সামনে গণধর্ষণের শিকার হলো।এর পরও কি আপনারা চুপ থাকবেন?
আজ কোথায় বাল-ছালের চেতনাবাদী নারী সংগঠন গুলো? নষ্টা গুলো এখনো বিচারের দাবিতে রাজপথে নামেনি কেন?
আজ নষ্ট গুলো ঝড়ু হাতে রাজপথে বের হয় না কেন?
নাকি তাদের ধর্ষণ করে আগেই হত্যা করে ফেলেছে ধর্ষকের দলেরা।হয়তো বা তাই নয়তো অবশ্যই নষ্টা গুলো বিচারের দাবিতে রাজপথে থাকতো।
শেষ কথা প্রতিটি হত্যা, প্রতিটি ধর্ষণ সবই বিচারহীনতার বহিঃপ্রকাশ।গতকালের ধর্ষণের বিচার হয়নি। আজকের ধর্ষণের বিচার হবে না। যারা বলবে বিচার হবে তারাই নিচ দিয়ে ধর্ষকদের বাঁচিয়ে দিবে।কেননা এটি উল্টো রাজার দেশ।
আপনাকে বলছি,আগামীকাল আপনার ঘরে ঢুকে ঢুকে আপনার পরিবারকে বেঁধে রেখে মেয়েদের ধর্ষণ করা হবে।
আর ভিকটিম হয়তো হবে আপনারই পরিবারের কোন সদস্য।
বিঃদ্রঃ নগর পুড়লে দেবালয় রক্ষা কিন্তু পায় না।
লেখক-মোঃ শিফাত মাহমুদ ফাহিম
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)