
তপু রায়হান রাব্বি,ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধিঃ মায়ের গর্ভ থেকে খুব শীঘ্রই ভূমিষ্ঠ হবে এক সন্তান,তবে দেখতে পারবে না জীবিত পিতার মুখ। কি নির্মম ইতিহাস!১০ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় ময়মনসিংহের ফুলপুরে শ্যামল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও উক্ত ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারসহ ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী সোমবার মানববন্ধন করেন। নিহত শ্যামল (২৭) ফুলপুর উপজেলার আলোকদি গ্রামের মৃত- হযরত আলী ম্যানেজার ছেলে। সে বালু ও ড্র্রাম ট্রাকের ব্যবসায়ী। তারা ৫ ভাই ২ বোন, নিহত শ্যামল সবার ছোট। শ্যামল বিয়ে করেছে প্রায় এক বছর। বর্তমানে তার বউ সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলোকদী গ্রামের দৌলত আলীর ছেলে মুঞ্জুরুল হক (৩০), শামছুল হক এর ছেলে মোসাদ্দেক(৩৮) এবং বাবুল মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩২)
জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত সহ পূর্ব শত্রুতার আক্রোশে ফুলপুরে সদর ইউনিয়নের আলোকদি গ্রামের কাঁচা রাস্তায় জনৈক বাবুল এর দেকানের সামনে জন প্রকাশে মুঞ্জুরুল হক নামের একজন শ্যামলকে দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপাইয়া মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্হলেই শ্যামল মৃত্যু বরন করেন। উক্ত সংবাদ ফুলপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ওসি মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, তদন্ত ওসি বন্দে আলী, ইউএনও এম সাজ্জাদুল হাসান, সার্কেল এএসপি আতাহারুল ইসলাম তালুকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে তাৎক্ষণিক ফুলপুর থানার পুলিশ উক্ত ঘটনাই জড়িত আসামিদেরকে গ্রেফতারের অভিযান চালিয়ে দৌলোতের পুত্র মঞ্জুরুল হক বাড়ি থেকে পালানোর সময় তা কে আটক করে। পরে তার দেখানো তথ্য মতে রক্তাক্ত দা ঘরের ভিতরে ধানের ঢোলা থেকে উদ্ধার করা হয়। এক ঘটনায় জড়িত আরো তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উক্ত ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে এলাকাবাসী শ্যামল হত্যাকাণ্ডে সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদকর্মী তপু রায়হান রাব্বি কে জানান, শ্যামল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনায় ব্যাবহৃত দা, রক্ত মাখা কাপড় জব্দ করা হয়েছে। মৃতের ভাই উজ্জল বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িত আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করার লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদের দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন সহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)