
তপু রায়হান রাব্বি, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সোহেল মিয়া (৩৫), পিতা-শাহ জাহান, ২। শাহীন মিয়া (৪৫), পিতা- আঃ জব্বার খান, ৩। আব্দুল বারেক (৪০), পিতা-আলী আকবর উভয় তারাকান্দা থানার নলদিঘী গ্রামের।
জানা যায়, উপজেলার নলদীঘি গ্রামের লাল মিয়া খান (৫০) কে গত ২৯ আগস্ট রাত আনুঃ ১০টার দিকে ওই গ্রামের কাশেম মিয়ার চা দোকানে চা খেয়ে মধ্য পাড়ার দিকে চলে গিয়ে আর ফিরে আসে না। পরিবারের লোকজন লাল মিয়া’কে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে, যার নাম্বার-১৪৩৬। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ফুলপু-তারাকান্দার সার্কেল ও তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ টিম ওয়ার্ক কাজ শুরু করে।
উক্ত মামলার তদন্ত অর্পণ করে, এস আই (নি:) মো: রায়হানুর রহমান। গত ৩১আগস্ট দুপুরে অজ্ঞাতনামা আসামি ফোন করে, লাল মিয়া’কে অপহরণ করা হয়েছে তার মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে হবে বলে দাবি করেন। পরে ০১ সেপ্টেম্বর সকালে মুজিবুর রহমান’র ফিশারি পুকুরে লাল মিয়ার লাশ পাওয়া যায়, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তারাকান্দা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এর পূর্বেই উল্লেখিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে, তিনজনকে গ্রেফতার করে।
২ সেপ্টেম্বর শনিবার তারাকান্দা থানা’য় সহকারি পুলিশ সুপার ফুলপুর-তারাকান্দার সার্কেল আতাহার হোসেন তালুকদার ও অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য জানান, আসামীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে বলেন যে, ঘটনার ৫ থেকে ৬ দিন পূর্বে আসামী সোহেল, শাহীন ও বারেকগন আসামী শাহীনের ঘরে বসে পরিকল্পনা করে ভিকটিম লাল মিয়াকে হত্যা করে লাশ গুম করবে এবং মোবাইলে টাকা চাইবে। উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ খুজতে থাকে।
গত ২৯শে আগস্ট রাত অনুমান ১০টায় ভিকটিম লাল মিয়া নিজ গ্রামস্থ জনৈক কাশেম এর দোকানে চা খেয়ে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। আসামী সোহেল মিয়া ও আব্দুল বারেক দুইজন মিলে ভিকটিম কে অনুসরন করে পিছনে পিছনে যায়। কিছু দূর যাওয়ার পর আসামী সোহেল মিয়া পুকুরে মাছ দেখার কথা বলে ভিকটিম লাল মিয়াকে ঘটনাস্থল বর্নিত সোহেলের পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। তখন কৌশলে সোহেল মিয়া পুকুরে খাবার দিতে থাকে এবং শাহীন মিয়া এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অনুমান ১০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে শাহীন মিয়া আসে এবং সোহেল মিয়া ও আব্দুল বারেক ভিকটিম কে ধরে রাখে শাহীন মিয়া প্রথমে কাচি দিয়া ভিকটিমের গলায় ফেস দেয়া এবং পেটের দুই পাশে চাকু দিয়া ঘাই দেয়। ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হইলে সোহেল মিয়ার ফিসারীর পুকুরে ফেলে দেয়। শাহীন মিয়া এবং আব্দুল বারেক চলে যায়।
আসামী সোহেল মিয়া ভিকটিমের লাশ বস্তায় ভরে এবং অন্য একটি বস্তায় বালি মাটি ভরে লাশের বস্তার সহিত বাধেঁ ভিকটিমের লাশ তাহার ফিসারীর পুকুরের পাশে জনৈক মজিবর রহমান এর পুকুরে ফিসারীর পুকুরে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করে। পরে আসামীগণ একই তারিখ রাত অনুমান ১১টার মধ্যে ভিকটিম লাল মিয়া খানকে অপহরণ করে ধারালো অস্ত্রদ্বারা আঘাতে হত্যা করে লাশ গুম করে। আসামীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
এ ব্যাপারে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল খায়ের সোহেল সংবাদকর্মী তপু রায়হান রাব্বিকে জানান, অপহরণ ও হত্যা করে লাশ গুম করার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃত লাল মিয়া খানের ছেলে, রাসেল মিয়া গত ০১ সেপ্টেম্বর থানায় একটি মামলা দায়ের করে মামলা নং-০২। ধারা ৩৬৪/৩৮৫/ ৩০২/ ২০১/ ৩৪ রজু হয়। এছাড়াও মামলায় জড়িত গ্রেফতারকৃত তিন আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)