
তপু রায়হান রাব্বি,ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধঃ
ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সড়কে ট্রাক আটকে ১১ হাজার ১৬০ লিটার তেল ডাকাতির ঘটনায় পেশাদার ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশ।
আটককৃত হলেন, ঢাকার খিরগাঁও থানার এলাকার মৃত আসাদ মিয়ার ছেলে মোঃ আরিফ মিয়া(২৫)। সবুজবাগ থানার এলাকার ইলিয়াস আলীর ছেলে আজগর আলী (২০)একই থানার এলাকার মোঃ ইমান আলী ছেলে মোঃ শাকিব (২০) এবং বরগুনা সদর থানার এলাকার মৃত ইউনুছ আলী মোল্লা ছেলে মোঃ আব্দুল খালেক (৪৩)।
পুলিশ উদ্ধার করেছেন ৫৯টি ভোজ্যতেলের ড্রাম (যাহার মধ্যে ০৪টি খালি) একটি ট্রাক যাহার রেজিঃ ঢাকা মেট্টো ট-১৫-৫০৪৫, একটি সাদা রংয়ের হায়েস মাইক্রোবাস যাহার রেজিঃ নম্বার ঢাকা-মেট্রো চ-১৫-১৯৯৭, ২টি মোবাইল সেট, ২টি লেজার লাইট, বিভিন্ন সাইজের ৪টি টর্চ লাইট, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দশ টি মোবাইল সেট, এক টি আরিফ হোসেন নামীয় সোসাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড চেক বই যার একাউন্ট নং-০৭২১৩৪০০৬৪০১৯, একটি আরিফ হোসেন নামীয় সোসাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর ক্যাশ/চেক ডিপোজিট বুক। ১০. ডাকাতির ঘটনায় প্রাপ্ত ভাগের টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত এক টি ১৫০ সিসি হিরো হাংক মটর সাইকেল। একটি প্যান্ট যাহা সেনা পোষাক সদৃশ। এ ছাড়াও নগদ টাকা ১২,০০০/-টাকা।
পুলিশের প্রস রিলিজ এ জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানতে পারেন যে, ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড় চিলাগাই সাকিনস্থ আব্দুল্লার মোড়ে কিছু সংখ্যক চোরাই ভোজ্যতেলের ভর্তি ড্রাম একটি গোডাউনে গোপন করে রেখেছে। যে স্থানে ভোজ্যতেলের ড্রাম মজুদ রেখেছে সে স্থানে কোন তেলের ব্যবসায়ী নেই। পরবর্তীতে ওই দিন রাত সাড়ে ১০টায় থানার ওসির নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে আ: করিমের ছেলে মো: শাহজাহান মিয়ার (৪২) গুদাম ঘর থেতে ৪৪টি ভোজ্যতৈল ভর্তি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য ১১,৭৮,৪৭৬/= (এগার লক্ষ আটাত্তর হাজার চারশত ছিয়াত্তর) টাকা। ইতিমধ্যে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ উক্ত ড্রাম গুলো মালিকানা সন্ধান কালে ত্রিশাল থানা পুলিশ কর্তৃক সন্ধান পাওয়া যায় যে, উক্ত ভোজ্যতেলের ড্রাম গুলো সত্ত¦াধিকার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ ওরফে হৃদয়, পিতা: মো: হেলাল উদ্দিন সাং কেওয়া চন্নাপাড়া, (শ্রীপুর পৌরসভা) থানা: শ্রীপুর, জেলা: গাজীপুর। পরবর্তীতে উক্ত বিষয়য়ে জনৈক আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ ওরফে হৃদয়, পিতা-হেলাল উদ্দিন, কেওয়া চন্নাপাড়া, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর জানান, গত ইং ১৫/০৮/২০২২ তারিখ দিবাগত রাত অনুমান ১২.৪০ ঘটিকার সময় নারায়গঞ্জ জেলা রূপগঞ্জ থানাধীন কাউনি নামক স্থানে একটি সাদা রংয়ের হায়েস মাইক্রোবাস দ্বারা ৭/৮ জনের একটি ডাকাত দল তার মালিকানাধীন ৬০ ড্রাম ভোজ্যতেল ভর্তি ট্রাকের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নিজেদের কে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ট্রাকের ড্রাইভার, হেলপার ও ম্যানেজার কে ট্রাক হইতে নামীয়ে ইলেকট্রিক শক দিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসের পিছনের সিটে ফেলে রাখে। ডাকাত দলের সদস্যরা ৬০ ড্রাম ভর্তি ভোজ্যতেল ও তেল বাহী ট্রাক ডাকাতি করে নিয়ে যায়। উক্ত বিষয়ে এজাহার দায়ের করলে ফুলপুর থানার মামলা নং-১৮ তারিখ ২০/০৮/২০২২ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
উক্ত মামলাটি তদন্ত ভার ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মাননীয় পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ মহোদয় ডাকাতির ঘটনা উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করার লক্ষ্যে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। মামলাটি রুজুর পর বিরতিহীন ভাবে অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে আভিযানিক দলটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে লুণ্ঠিত অবশিষ্ট ১৫ ড্রাম ভোজ্যতেল হালুয়াঘাট থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। মামলাটি তদন্তকালে বিশ^স্ত সোর্স নিয়োগ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাস যাহার নম্বর-ঢাকা- মেট্রো-চ-১৫-১৯৯৭, সনাক্ত পূর্বক গাড়ীটি খিলগাঁও থানা, ডিএমপি, ঢাকা এলাকা থেকে জব্দ করে ও মাইক্রোবাসের ড্রাইভার, রেন্ট-এ কারের মালিক ও সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের সনাক্ত করিয়া ডিএমপি, ঢাকা এর খিলগাঁও, সবুজবাগ ও কদমতলী থানা এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করিয়া সরাসরি জড়িত ডাকাত ১। মোঃ আরিফ মিয়া (২৫), পিতা-মৃত আসাদ মিয়া, মাতা-মৃত মনোয়ারা বেগম, সাং-ফকিরখালী (সোনা মিয়ার বাড়ীর নিকট মাতাব্বর বাড়ীর উত্তর পার্শের্¦ মৃত আতাব আলীর বাড়ী), থানা-খিলগাঁও, ডিএমপি, ঢাকা, বর্তমান ঠিকানা-প্রযতেœ বড় ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাং-১৮৯৬/ দক্ষিন ধনিয়া (নূর মোহাম্মদ সিকদার এর ভাড়াটিয়া), থানা-কদমতলী, ডিএমপি, ঢাকা ২। আজগর আলী (২০), পিতা-ইলিয়াস আলী, মাতা-ইয়াসমিন বেগম, সাং-বেগুনবাড়ী কাঠেরপুর, থানা-সবুজবাগ, ডিএমপি, ঢাকা ৩। মোঃ শাকিব (২০), পিতা-মোঃ ইমান আলী, মাতা-শাহনাজ বেগম, সাং-বাসা নং-৩০৯, ওহাব কলোনী, বাসাবো, থানা-সবুজবাগ, ডিএমপি, ঢাকা ৪। মোঃ আব্দুল খালেক (৪৩), পিতা-মৃত ইউনুছ আলী মোল্লা, মাতা-মিনারা বেগম, সাং-পরীখাল (ছোট্ট বালিয়াতলী), থানা-বরগুনা সদর, জেলা-বরগুনা, এ/পি-বাসা নং-১৫৬ মান্ডা, থানা-মুগদা, ডিএমপি, ঢাকা দের কে গত ২৬শে আগস্ট গ্রেফতার করা হয়।
উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীরা আন্তঃজেলা পেশাদার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃত আসামীরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে ২৮শে আগস্ট রবিবার বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রদান করেছেন। মামলার ঘটনার অন্যান্য জড়িত আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
লুণ্ঠিত মালামালের বিবরণঃ-
(১) ৬০টি ভোজ্যতৈল ভর্তি প্লাস্টিকের ড্রাম। (প্রতি ড্রামে ১৮৬ লিটার করে ভোজতৈল আছে)। যাহা সর্বমোট ১১,১৬০/- লিটার, যাহার মূল্য- ১৬,০৭,০৪০/ (২)২টি মোবাইল সেটর মূল্য- ৮,৫০০/- (৩) নগদ টাকা -৫,০০০/-টাকা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)