
বিশেষ প্রতিনিধি:বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু ও রড ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের নকশাও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নেন দুর্গমের বাসিন্দারা।
উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পে ৩৫ টি ঘর বরাদ্দ দেয় সদর ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডে।
প্রতিটি ঘর তৈরির খরচ দেয়া হয় এক লাখ নব্বই হাজার টাকা।
নকশা অনুযায়ী, দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর হবে ২০ ফুট লম্বা ও প্রস্থ হবে ৮ ফুট। চারদিকে ইটের দেয়াল আর উপরে ৪৬ মিলিমিটার রঙিন ঢেউটিন দিয়ে ছাউনি দিতে হবে।
ঘরের ছাউনির কাজে ভাল মানের কাঠ ব্যবহারের কথা। ঘরের মেঝেতে তিন ইঞ্চি ইটের ঢালাই দেয়ার কথা। রান্নাঘর ও টয়লেট হবে ১৩ ফুট। কিন্তু বাস্তবে ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়নি।
আলীকদম সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ঘুরে সরেজমিনে প্রতিটি ঘর নির্মাণে নানা অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট কম, রড কম এবং নিম্নমানের টিন দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
জানাগেছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২১ তারিখে এসব ঘর নির্মানোত্তর স্থানীদের মাঝে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ঘর নির্মাণ ও স্থানীদের মাঝে যথা সময়ে হস্তান্তর করা হলেও সদর ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডে এখনো অসম্পন্ন থেকেছে ১৫টি ঘর।
এর মধ্যে তংপে মুরুং কারবারীপাড়ায় তিনটি ঘর এখনো অস্পন্ন। এভাবে আরো কয় কটি ঘর এখনো নির্মান সম্পন্ন করনি। অন্য দিকে এসব ঘর নির্মানোত্তর প্রান্তিক পরিবারের মাঝ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে মর্মে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছন ইউএনও।
জানাগেছে দুর্গমে আরো কয়েকটি ঘরের কাজ এখনমাত্র শুরু করেছন। কবে নাগাদ এসব ঘর বানানো শেষ হবে, সে ব্যাপারে কোন জবাব দিতে পারছন না ওয়ার্ড মেম্বার জাকের।
এব্যাপারে ঘর নির্মানের দায়িত্ব প্রাপ্ত ইউপি সদস্য জাকের জানান, দুর্গম এলাকা হেতু কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। নির্বাচনের পর করে দেব। ওই ম মেম্বার এও স্বীকার করেন যে, "ঘরগুলোর কাজ শেষ করতে না পারাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে মারতেও চেয়েছ"! তবে সে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এসব নিয়ে কথা বললে ঘরবঞ্চিত হওয়ার ভয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। এসব অনিয়ম মেনেই ঘর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছন সুবিধাভোগীরা।
নিম্নমানের ঘর নির্মাণের বিষয়ে একাধিক সুবিধাভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব নিয়ে কথা বললে ঘর দেয়া হবে না তাদের। এই ভয়ে মুখ খুলছেন না তারা। নানা অনিয়মের তথ্য দিলেও গণমাধ্যমে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।
সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সরকারি এসব ঘর বরাদ্দ দিতে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়েছে। ঘর নির্মাণের জায়গায় মাটি ও বালু ভরাটের কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুবিধাভোগীর ভাষ্য, ঘর নির্মাণের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কথা বললে আমাদের ঘর দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে ঝামেলা করবে পিআইসি। এজন্য সব অনিয়ম মেনেই ঘর পাওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্বাস উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক মুরাদুল আলম (নিশান)